raqueeb
ব্রডব্যান্ড বাংলাদেশ: পর্যালোচনা

Updated 10 months ago

ভুমিকা


ব্রডব্যান্ড বাংলাদেশ: পর্যালোচনা

যে কারনে ইন্টারনেটের মুল্য এখনো ধরাছোয়ার বাইরে

সংক্ষেপ


ডাটা বলে যে দেশগুলো এগিয়েছে এই শতাব্দীতে, তারা এগিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর ভর করে। ইউরোপ যেভাবে সুযোগ নিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশনের, তার থেকে কম সময় নিয়ে এগিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মজার কথা, এর অনেক বেশি গতিতে এগিয়েছে এশিয়া প্যাসিফিকের দেশগুলো। তার কারণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার।

তথ্যপ্রযুক্তিকে বলা হয় গ্রেটেস্ট ‘একুয়ালাইজার’। ব্যাপারটা এমন, যারা শুরু করেছে পরে, তারাও উন্নতদেশগুলোকে ধরতে পেরেছে এক পর্যায়ে। কারণ, প্রযুক্তির অনেক ‘ইভোলুয়েশন’ দিয়ে পার হবার সময় তার খরচ হয়নি বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা। যেমন ধরুন - ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের টেলিযোগাযোগের জন্য কপার ইনফ্রাস্ট্রাকচারে যেভাবে খরচ করেছে সেরকম কিন্তু খরচ করতে হয়নি আমাদের মতো দেশগুলোতে। আমাদেরকে বসাতে হয়নি হাজারো কোটি টাকার ট্রান্সআটলান্টিক কপারের কেবল ইনফ্রাস্ট্রাকচার।

মোবাইল প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে কম সময়েই উন্নত দেশগুলোর কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছি আমরা। আমরা একেবারে বসিয়েছি ফাইবার কেবল। আমাদের বঙ্গোপসাগরে। শুধুমাত্র - নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এখন এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বুদ্ধিমান তবে কম ‘রিসোর্সে’র দেশগুলো। সেটার জন্য দরকার নীতিনির্ধারনীতে ওই ধরনের প্রজ্ঞা। জানা দরকার কোনটা কোথায় কাজ করেছে, আর কোনটা করেনি। গরীব দেশগুলোর ট্রায়ালের সুযোগ কম। তাকে শিখতে হবে অন্যের উদাহরণ নিয়ে। নিজেকে দিয়ে নয়।

এটা ঠিক যে - তথ্য প্রযুক্তি যেভাবে আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেই তথ্য প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দরকার প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার। হয়তোবা, আমাদের দরকার পড়ছে না ইনভেস্ট করতে - ওই পুরানো কপার ইনফ্রাস্ট্রাকচারে, তবে সেটার গতি হাজার গুনে বাড়াতে এসেছে ফাইবার প্রযুক্তি। তার মানে, যদিও আমরা বাঁচিয়েছি হাজার কোটি টাকা ওই মধ্যবর্তীকালীন প্রযুক্তিতে না ইনভেস্ট করে। তবে, সেই সাথে প্রয়োজন ইনভেস্টমেন্ট নতুন ইনফ্রাস্ট্রাকচারে। নতুন প্রযুক্তিতে।

আমার দেখামতে - আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো আটকে আছে একটা বিষাক্ত চক্রতে। হয়তোবা আমরা বাঁচিয়েছি হাজার কোটি টাকা, সেই সাথে ইনভেস্ট করা হয়নি নতুন প্রযুক্তিতে। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে। ফলে পিছিয়ে পড়ছি প্রতিদিন। নতুন প্রযুক্তিতে ইনভেস্ট করার মানেটা একটু ব্যাপক। এই তথ্য প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দেবার জন্য দরকার ‘প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচারে’ বিনিয়োগ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে সাত বছর চাকরি করার সুবাদে অনেকগুলো ‘কেস স্টাডি’ পড়ার সুযোগ হয়েছে আমার। উন্নতদেশগুলোর পাশাপাশি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর। আর সেইগুলোই আমার এই লেখার প্রেমিস।

বইটার কাজ শুরু হয়েছে দ্বিতীয় চ্যাপ্টার থেকে। প্রথম চ্যাপ্টার কিছুটা ব্যাকগ্রাউন্ডার। কিভাবে এলাম এখানে। কোন যোগ্যতায়। সেটার কিছুটা পার্সপেক্টিভ নিয়ে আসা। যারা চেনেন আমাকে, নির্দ্বিধায় শুরু করতে পারেন তিন নম্বর চ্যাপ্টার থেকে। চ্যাপ্টারটার নাম "ইন্টারনেট, কর্মসংস্থান, জিডিপি = মানুষের মুক্তি"। ইশারায় কাফি। ব্রডব্যান্ড কিভাবে একেকটা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেটার হিসেবে আসছে জিডিপিতে। মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিতে কিভাবে সাহায্য করছে বর্ণনা এসেছে এখানে।

তৃতীয় চ্যাপ্টারের মূল গল্প হচ্ছে পুরো ইন্টারনেট ইকোসিস্টেম নিয়ে।

****

****

(বইটার লেখা শুরুকরেছিলাম বিটিআরসির শেষ বছরে। পুরো এগারোটা চ্যাপ্টার শেষ করেছি আমার পরের পোস্টিংয়ে। ধারণা, করছি অনলাইনে যোগ করবো আস্তে ধীরে। সময় পেলে।)

ধন্যবাদ আপনাকে।


দালোয়া, আইভরি কোস্ট

জানুয়ারী, ২০১৪